গত এক বছর ২২ গজের উইকেটে ভালো করতে পারেননি বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ৬ ক্রিকেটার সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, তাসকিন আহমেদ, সাব্বির রহমান, কামরুল ইসলাম রাব্বি ও মোসাদ্দেক হোসেন। তার খেসারত দিতে হলো নতুন চুক্তি থেকে বাদ পড়ে। বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের বুধবার সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
৬ জনকে বাদ দিলেও নতুন করে কাউকে চুক্তিতে নেয়া হয়নি। এর ফলে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ১৬ ক্রিকেটারের সংখ্যা কমে ১০ জনে নেমে এসেছে। এই ১০ জন হলেন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মুস্তাফিজ, মিরাজ, তাইজুল, রুবেল ও মুমিনুল। তবে নতুন খেলোয়াড়দের উত্সাহিত করতে রুকি ক্যাটাগরিতে ৩ ক্রিকেটারকে নেয়ার কথা জানিয়েছেন বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। রুকি ক্যাটাগরির প্রস্তাব ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির পক্ষ থেকে আসেনি। বিসিবির পরিচালনা পর্ষদই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান বিসিবি সভাপতি। তিনজনের নাম পরে জানানো হবে। বিসিবি নতুন চুক্তিতে ১৩ ক্রিকেটারের ক্যাটাগরি পরে ঠিক করা হবে।
এদিকে ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানোর যে কথা ছিল তা গতকালের সভায় নেয়া হয়নি। তবে তাদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কী পরিমাণ বেতন বাড়ানো হবে তা বিসিবির ফাইন্যান্স কমিটি পর্যালোচনা করে দেখবে বলে জানান বিসিবি সভাপতি।
তিনি বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমাদের যে সমস্ত খেলোয়াড়রা বেতনভুক্ত, ওদের বেতন এবং আমাদের অন্যান্য যে লোকজন আছে তাদের বেতন আমাদের বাজেটের মধ্যে কি করতে পারি সেটা ফাইন্যান্স কমিটিকে পর্যালোচনা করতে বলেছি। আমাদের যে প্রস্তাব দিলাম কিন্তু আমাদের ওই টাকাটা না থাকলে কি হবে। এজন্য বাজেট দেখে খাপ খাইয়ে এ সমস্ত খাতে বাড়াতে পারি। তারা আমাদেরকে জানাবে।’
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে (এসিসি) পরবর্তী সভাপতি হবেন বাংলাদেশ থেকে। এখন প্রয়োজন নাম প্রস্তাব করা। গতকালের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের নাম পাঠানোর। এসিসির আগামী সভাতেই এই নাম প্রস্তাব করা হবে বলে জানান বিসিবি সভাপতি। বুধবারের সভায় বিপিএলের আগামী আসরে একটি দলে ৪ জন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানোর সিদ্ধান্তও নেয়া হয়। গত আসরে সেরা একাদশে খেলেছিলেন ৫ বিদেশি। ৫ বিদেশি খেলানোর কারণে অনেক সমালোচনা হয়েছিল।
এদিকে আগামী আসরে একটি ফ্রাঞ্চাইজি দেশি-বিদেশি যে কোনো ৪ ক্রিকেটারকে ধরে রাখারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিপিএল শুরুর তারিখও এগিয়ে আনা হয়েছে। অক্টোবরের ৫ তারিখ থেকে শুরু হবে। শেষ হবে ১৬ নভেম্বর। তবে বিসিবির সভাপতি জানিয়েছেন তারা ১ অক্টোবর শুরু করার চেষ্টা করবেন। আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা গঠনের পাশাপাশি একাডেমিও রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। যে কারণে গতকালের সভায় আরো ১৫ দিনের সময় দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘রিজিওনাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের যে ড্রাফট প্রোপোজাল করা হয়েছে, সেটাতে একাডেমির কথা লিখা ছিল না। আমরা অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সঙ্গে একাডেমিও করতে চাচ্ছি। যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা এ সমস্ত জায়গায় যদি একাডেমি করে ফেলি তাহলে এখানে এত প্রেসার পড়ে না। যদি একাডেমি ওখানে করে ফেলি তাহলে আরো খেলোয়াড় ওখান থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা থাকবে।’ বিসিবির সভায় কিন্তু মাশরাফি-সাকিবদের প্রধান কোচের ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘হেড কোচ নিয়ে কাজ করছি। আমরা আশা করছি সামনের মাস থেকে আমরা হেড কোচ হিসেবে কাউকে পাব।’

0 Comments